পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির এক উদ্যোক্তা পরিচালক এস এম রেজাউল আলম ১ কোটি ২১ লাখ ২০ হাজার শেয়ার হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুসারে, রেজাউল আলম তার স্ত্রী ফাহিমা হোসনাকে ৬০ লাখ ৬০ হাজার ও মেয়ে রোশমী রুহিকে সমপরিমাণ শেয়ার উপহার হিসেবে দেবেন। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএসইর ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে ঘোষিত শেয়ার হস্তান্তর করবেন তিনি। উল্লেখ্য, ফাহিমা হোসনা ও রোশমী রুহি উভয়ই কোম্পানিটির সাধারণ বিনিয়োগকারী।
দেশের পুঁজিবাজারে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের লেনদেন শুরু হয় ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩০২ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১১ হাজার ৯৪ কোটি ২ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩০ কোটি ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৩। এর মধ্যে ৭৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ শেয়ারই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৫২, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৬ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
কোম্পানিটি সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩৫০ শতাংশ নগদ ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের জন্য ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৫০ শতাংশ লভ্যাংশ পাঠিয়েছে কোম্পানিটি।
তথ্য অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৪ টাকা ৭৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৫ টাকা ৮৪ পয়সা। সে হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ৭৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৭৯ টাকা ৩০ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত), পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া যা ২৭৭ টাকা ৮৬ পয়সা। চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৬৭ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৮৪ টাকা ২২ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত), পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া যা ২৮২ টাকা ৮০ পয়সা।
২০২২-২৩ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পর্ষদ। উদ্যোক্তা পরিচালকদের জন্য ৯০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা রয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৫ টাকা ৮৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪০ টাকা ১৬ পয়সা।
গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৪৩ টাকা ৭৩ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত), পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া যা ২৪২ টাকা ১৮ পয়সা।
২০২১-২২ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালকদের ১৫০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ। ২০২০-২১ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালকদের ১৭০ শতাংশ নগদ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২০০ শতাংশ নগদ ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের ৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়েছিল।
ওয়ালটনের সার্ভিলেন্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ২০২০ থেকে ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।